সাব্বিরের পর সাঝঘরে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও

প্রথম ইনিংসে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে মাঠে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি, ৩৬ রানেই দুই উইকেটের পতন হয়। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২৭ রান। তারা উইকেট হারায় তিনটি। তাই লাল-সবুজের দল যে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই সেটা বলাই যায়।

তৃতীয় দিন মূল ভরসা হয়ে উইকেটে টিকে ছিলেন তামিম ইকবাল। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। দিনের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেলুকায়োর শিকার হলেন তিনি। এরপর আবার প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬৯ রান যোগ করেন তারা। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেননি মুমিনুল। কেশব মহারাজের বলে আউট হন তিনি।

এরপর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির রহমান। দুজনে মিলে ভালোই খেলছিলেন। ৬৫ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ২৯২ রানের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। উইকেটের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া একটি বল টেন আনতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তখন তাঁর ঝুলিতে ছিল ৩০ রান। অল্প কিছুক্ষণ পর মাহমুদউল্লাহ ফিরে যান মরকেলের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে। তার আগে ৬৬ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।

শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ সাত উইকেট হারিয়ে ৩০৫ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ ও তাসকিন আহমেদ ১ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই উইকেটের দেখা পায় স্বাগতিকরা। রাবাদার বুলেট-গতির শর্ট বলে আউট হন ইমরুল। স্লিপে দারুণ ক্যাচ নেন এইডেন মার্করাম। এরপর ভালোই খেলছিলেন লিটন দাস। দ্রুতই কয়েকটি চার মেরে ২৫ রানে পৌঁছে যান তিনি। তবে ১১তম ওভারে মরকেলের আউট সুইংগারে হাশিম আমলার কাছে ধরা পড়েন তিনি।

প্রোটিয়া পেসারদের দাপটে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৭ রান যোগ করেন তাঁরা। তবে ইনিংসটাকে খুব বেশিদূর টেনে নিয়ে যেতে পারেননি মুশি। দলীয় রান যখন ১০৩, কেশব মহারাজের বলটাকে ভালোভাবে ঠেকাতে পারেননি তিনি। বলটা ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা হয় এইডেন মার্করামের হাতে। ৫৭ বলে ৪৪ রান করেন বাংলাদেশ দলপতি। এরপর তামিম ও মমিনুল দিনের বাকি সময়টাতে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি।

তৃতীয় দিনে ভালোই খেলছিলেন তামিম ও মমিনুল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন তাঁরা। ৪৬তম ওভারে অভিষিক্ত ফেলুকায়োর বলটা তামিমের ব্যাট লেগে জমা হয় কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে জমা হয়। ৩৯ রান করেন দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান।

তামিম বিদায় নেওয়ার পর ব্যাট হাতে খুঁটি গেড়ে বসেন মুমিনুল হক। সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে এখন পর্যন্ত ৬০ রান যোগ করেছেন তিনি। এই ম্যাচে দারুণ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহও।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেস্টে মুমিনুলেরটি বাদ দিলে, কেবল তিনটি। ২০০৮ সালে সেঞ্চুরিয়নের একই টেস্ট ইনিংসে জুনায়েদ সিদ্দিক করেছিলেন ৬৭, আর মুশফিকুর রহীম ৬৫। ২০০২ সালে পচেফস্ট্রমে হান্নান সরকারের ব্যাট থেকেও এসেছিল ৬৫ রান। সেবার ইস্ট লন্ডনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৪৯ করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন সানোয়ার হোসেন।

এবারের সফরে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেই ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ৩৩। সেই পারফরম্যান্সটা পচেফস্ট্রমে প্রথম টেস্টেও টেনে আনলেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *