হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করণীয়

বিশ্বজুড়ে ‘হার্ট অ্যাটাক’ একটি আলোচিত বিষয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি ব্লক হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়।
এ রোগে ব্যক্তির জীবনাবসান পর্যন্ত হতে পারে। তবে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।

১. খাদ্যাভাসে পরিবর্তন:
হৃৎপিণ্ড ভালো রাখার শক্তিশালী ওষুধ হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। খাওয়াদাওয়ার নিয়ন্ত্রণ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

২. প্রতিদিন পাঁচ কাপ সবজি খান:
খাদ্যাভ্যাস দেহের ক্রনিক রোগগুলোকে প্রতিরোধ করে (যেসব রোগ একেবারে ভালো হয় না কেবল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এ ধরনের রোগকে ক্রনিক রোগ বলে)। প্রতিদিন সবজি এবং ফল খেলে ৩০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তাই চেষ্টা করুন খাদ্য তালিকায় সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে। পাঁচ কাপ পরিমাণ সবজি খেলে সবচেয়ে ভালো হয়। আর ফল যদি খেতে নাও ইচ্ছা করে তবে জুস করে খান। বেশি করে ফল খাওয়াও হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো।

৩. প্রতিদিন তিন কাপ চা পান:

গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, ওলং টি-এই চাগুলো দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। দেহের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ প্রশমন করতে সাহায্য করে। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে নিয়মিত এ চা পান করতে পারেন।

৪. প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন:

যদি মাংস খেতেই হয় তবে প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন। যেমন : হটডগস, সসেজ, ব্যাকন ইত্যাদি। প্রক্রিয়াজাত মাংস হৃদরোগের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ বাড়ায়। তাই এ ধরনের মাংস না খাওয়াই ভালো।

৫. প্রচুর মাছ খান:

চর্বিযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের উৎস। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। এটি দেহের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তাই প্রচুর মাছ খান।

৬. সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করুন:

চেষ্টা করুন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করার। মাঝরাতে খাবার গ্রহণ করবেন না। মাঝরাতের খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তে শর্করার পরিমাণ এবং রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
তাই রাতের খাবারের পর রান্নাঘরের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। পাশাপাশি বিশ্রাম নিন। শরীরের মেটাবোলিক কার্যক্রম বাড়াতে বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে।

৮.ভালো বিষয়ে তালিকা তৈরি করুন:

যদি দিনে ভালো কিছু করে থাকেন, তবে তার একটি তালিকা তৈরি করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৮৭ জন লোকের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমেছে কেবল এই কাজটির কারণে। এটি আপনাকে ভালো অনুভূতি দিতে সাহায্য করবে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে আছেন, তাদের মানসিকভাবে সুস্থ করতেও এ বিষয়টি বেশ কাজে দেয়। তাই যে কাজগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ প্রতিদিন সেগুলো নোট খাতায় লিখে ফেলুন।

ব্যস্ত থাকুন: যারা সপ্তাহে অন্তত দু’বার যৌন মিলনে অভ্যস্ত, তারা বেশি ভালো থাকেন যারা মাসে একবার যৌন মিলনে লিপ্ত হন তাদের তুলনায়। যদি আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকেন তবে সেক্সুয়াল অ্যাকটিভিটি বাড়ান।

যোগব্যায়াম করুন: যোগব্যায়াম আপনার শরীরের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে; হৃৎস্পন্দন সঠিক রাখতে কাজ করে। যোগব্যায়াম দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে যোগব্যায়াম করতে পারেন।

জানালা খোলা রাখুন, বাতাস প্রবাহিত হোক: বিভিন্ন কারণে ঘরের বাতাস দূষিত হতে পারে। বায়ুদূষণের ফলেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই অন্তত একবেলা আপনার ঘরের জানালাগুলো খুলে দিন এবং বাতাস চলাচল করতে দিন।

ধোয়ামোছার জিনিসপত্র: রান্নাঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, এসব পণ্যে ক্যামিক্যাল রয়েছে যেটি উচ্চরক্তচাপ এবং স্ট্রোকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই রান্নাঘর পরিষ্কারের জন্য সাদা ভিনেগার, লেবু, খাবার সোডা ব্যবহার করুন।

প্লাস্টিকের পণ্য কম ব্যবহার করুন: প্লাস্টিকের পণ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থাকে। যেমন : বিসফেনল এ (বিপিএ) এবং পেথালেটস। এগুলো শরীরের হরমোনাল পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। বিপিএর সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক আছে। পেথালেটস কেমিক্যাল দেহের কার্ডিওভাসকুলার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। তাই প্লাস্টিকের কনটেইনারের ব্যবহার কমিয়ে গ্লাস, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *