বিগ ডাটা: জেনারেশন (IoT)

টিপিক্যাল কিছু এক্সাম্পল, বিগ ডাটা কি এবং বিগ ডাটা ৭V নিয়ে আমরা আগের পর্ব গুলোতে আলোচনা করেছি। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় বিগ ডাটা লাইফ সাইকেলের মেইন ধাপ বিগ ডাটা জেনারেশন।

আমরা ডাটা কোথায় থেকে পাই ? সবাই একবাক্যে বলবো এটা আবার কঠিন কি ! বিভিন্ন সোর্স থেকে ডাটা আসে। অনেকে আবার এক্সাম্পল টেনে বলবে হেই তুমি জানো না ! ডাটা তো আমরা ওয়েব, বিসনেস কিংবা বিভিন্ন এপ্লিকেশন থেকে পাই।  ইয়েস ঠিক একদম এভাবেই আমরা ডাটা পেয়ে থাকি। কিনতু আমি এই থিংসের সাথে একটু অ্যাড করতে চাই সেটা হলো ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) । IBM এর একটা ভিডিও দেখলে হয়তো বুজবো এটার পোটেনশিয়ালিটি কেমন ? চলুন না দেখে নেই ভিডিওটা :

 

আমরা যা ধারণা করতে পারি , আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বিশাল “The Internet of Things”. এটাই এখন সত্য যে, যেসকল machine ও appliance আমাদের বাসাতে কিনবা অফিস এ ব্যাবহার করি, আমরা যে বিল্ডিং এ বাস করি কিংবা আমরা যে কারে ট্রাভেল করি সবকিছুই “Internet of Things” এর পার্ট হয়ে যাচ্ছে ।The internet of Things এর গুঞ্জন আজ চারিদিকে শুনে থাকি, কিন্তু কি সেই গুঞ্জন ?

IoT (Internet of Things) এর মাধ্যমে আমাদের চারিপাশের মেশিনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বেড়েই চলছে । এখন ক্লাউড কম্পিউটিং ও নেটওয়ার্কিং এর পরিধি আরও বিস্তর হচ্ছে , কেননা সেন্সরের মাধ্যমে ম্যাসিভ পরিমাণ ডাটা আমরা পাচ্ছি। ফলে মোবাইল, ভার্চুয়াল এবং প্রতিটি ডিভাইস ও রাস্তার আলো থেকে শুরু করে সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত সবকিছুই “smart” হচ্ছে । কিনতু, এখানেই কি শেষ ! না আমি বলি যে সাধারণত মানুষ খুব বড় কিছু চিন্তা করতে পারে না ।  কারণ, তারা অনর্থক ভাবে ফোকাস করে Machine to Machine Communication (M2M) কে কিংবা মনে করে ডিভাইস – ডিভাইস কথা বলে। কিন্তু মেশিন একটা যন্ত্রাংশের সমষ্টি, যা কিনা একটা যন্ত্র । এটা এমন হতে পারে “Something that physically doing something” । কাজেই, যখন আমরা মেশিন কে স্মার্ট হওয়ার কথা বলি তখন আমরা সরাসরি M2M কে রেফার করতে পারি না । কারণ, আমরা কথা বলি sensor এর সমন্ধে, সেন্সর কিন্তু মেশিন না ! (Sensor doesn’t do anything in the same sense that a machine does) . ওহ নো রনি, একটু বোরিং হয়ে যাচ্ছে তো ? ওকে, নো প্রব্লেম চলুন আমরা এগুলা না জেনে একটা ইমাজিনেশন করে আসি একটু,

২০০৭ সালের দিকে তাকাই, Minnesota তে একটা ব্রিজ ভেঙ্গে যাই এবং অনেক মানুষ মারাও যাই ।  কারণটি ছিল, ব্রিজের স্টিলের প্লেটগুলো সঠিক ভাবে লোড নিতে না পারা। যখন ব্রিজটি আমরা rebuild করবো , তখন আমরা স্মার্ট সিমেন্ট ব্যাবহার করতে পারি যা কিনা চাপ, ফাটল এবং সংকোচনকে মনিটরিং করতে পারবে ।এই সিমেন্টটি বিপর্যয়কারী কিছু ঘটার আগেই প্রব্লেম ফিক্সড করার জন্য অ্যালাট জানাবে । আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে তো বাস্তবায়ন করতেই পারি আমরা, হোক না একটু বাজেট বেশি 🙂

যদি কখনো ব্রিজের উপর বরফ জমাট বাধে? তখন ঐ একই সেন্সর জমাতবদ্ধ বরফকে ডিটেক্টকরে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে কারের সাথে কমুনিকেটে করবে। যখন কারটি জানতে পারবে সামনে বিপত্তি আছে তখন কারটি ড্রাইভারকে আস্তে চালাতে নির্দেশ দিবে ।  এটা একটা রিয়েল টাইম সিস্টেম যা কিনা sensor to machine ও machine to sensor এর মধ্যে যোগাযোগ করবে ঐ একই প্লেসে, একই সময়ে।

আমরাতো কেবল IOT এর প্রভাব দেখতে শুরু করেছি । যখন একটা স্মার্ট কার এবং একটি স্মার্ট সিটি গ্রিড পরস্পর পরস্পরের মধ্যে কথা বলতে শুরু করবে তখন আমরা কি ভাববো ?

আমরা ট্র্যাফিক ফ্লো অপটিমাইজেশন এর কথাই চিন্তা করি ! আমরা স্পটলাইটে ফিক্সড টাইমার এর পরিবর্তে স্মার্ট স্পটলাইট ইউজ করতে পারি যা ট্র্যাফিক ফ্লো এর সাথে সাথে চেঞ্জ হবে । ট্র্যাফিক অ্যান্ড স্ট্রিট কন্ডিশন ড্রাইভার এর সাথে communicate করবে এবং আশেপাশের ঘনবসতিপূর্ণ আলাকা,তুষার ঢাকা রাস্তা কিংবা কনস্ট্রাকশন এর জন্য বন্ধ থাকা রাস্তা ,সবকিছু সেন্সর রি-রাউটিং করে ড্রাইভারকে ইনফরম করবে ।

কাজেই, আমাদেরকে ডাটা শর্ট করে মনিটরিং ও ট্র্যাকিং করতে সাহায্য করছে সেন্সর । আর Cloud based apps আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে ডাটাকে মেশিন কিংবা মোবাইল এ রেয়াল টাইম রেসপন্স করবে । আমরা আশা করতেই পারি, ঢাকা সিটিকে খুব শীঘ্রই স্মার্ট সিটি হিসাবে দেখবো। এতক্ষণ, IoT নিয়ে বকবক করলাম দেখে আসি এটার সাথে বিগ ডাটার কি সম্পর্ক ! তার আগে একটু গুগল হোম এর সাথে মজা করতেই পারি আমরা :

 

বিভিন্ন রকম ডিভাইস, মেশিন,সেন্সর, ওয়েব লগ ইত্যাদির ডাটা গুলো জেনারেট হয় আমরা সবাই জানি। এই ডাটাগুলো অবশ্যই ম্যাসিভ ডাটা , আন-স্ট্রাকচার্ড, সেমি-স্ট্রাকচার্ড কিংবা স্ট্রাকচার্ড এবং ডাটাগুলো বিভিন্ন ধরণের।  কাজেই আমরা বলতে পারি IoT থেকে প্রাপ্ত ডাটাই বিগ ডাটা।  আর এই বিগ ডাটা এনালাইসিস করেই এমন রিয়েল টাইম ডিসিশন পাচ্ছি আমরা। গারটনার সাময়িকীতে,  ২০১৫ সালের মধ্যে সব চেয়ে আলোচিত ছিল The Internet of Everything.  IoE এর ভাষ্য একদমই নতুন আমাদের মাঝে ।IoE কে আমরা চারটি পিলারে ভাগ করতে পারি ঃ People , Data, Process and Things । এই চারটি পিলার নিয়েই আবার IoT । IoE নিয়ে একটু ডিপলি জানতে চাইলে দেখে নিতে পারেন –

লিংক : https://ronysplanet.blogspot.com/2016/08/the-internet-of-everythingioe-internet.html

 

শেষের আগে একটু বলে নেই, ৮৭% মানুষ “Internet of Things” pharse টার নামই জানে না(ফোর্বস)। ২০২২ সালের মধ্যে ২০বিলিয়ন ডিভাইস কানেক্টেড থাকবে তার মধ্যে ১৮ বিলিয়ন IoT ডিভাইস হবে (Ericsson)।

 

In IoT, Nothing is more valuable than a transformation partner with end to end capabilities and industry knowledge – Ericsson

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *