রিজার্ভ বাড়াতে প্রবাসী বন্ডের প্রস্তাব প্রত্যাশিত রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও আসছে না

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ দেশে যে মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ চলছে, সেগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে। গত অর্থবছর থেকে প্রত্যাশিত রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও আসছে না।
উপরন্তু অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাম্প্রতিককালে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঘাটতি পূরণে খাদ্য আমদানির পেছনেও অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের (রিজার্ভ) ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে রিজার্ভের এই চাপ সামলাতে প্রবাসী বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে একটি বিদেশি মালিকানাধীন বহুজাতিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড নামে বাংলাদেশে ব্যবসারত এই ব্যাংকটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে গত আগস্টে পাঠানো এক চিঠিতে এ ধরনের প্রস্তাব দেয়। অর্থমন্ত্রী বন্ড ছাড়ার প্রস্তাবটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ বিভাগকে পর্যালোচনা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগে কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো আরও সহজ করার বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, কোনো প্রবাসী এ ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে দেশে উপস্থিত থেকে বিনিয়োগ করতে হয়। এর ফলে এনআরবি বা অনাবাসী বন্ডে বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহ দেখান না বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা।

বর্তমানে বন্ডে যে বিনিয়োগের প্রস্তাবটি এসেছে, সেটিতে যাতে অনাবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশে থেকেই বিনিয়োগ করতে পারেন তাই নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সূত্রগুলো আরও জানায়, রিজার্ভে যাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রপ্তানি আয় বাড়াতে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজার বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। রেমিট্যান্স আয় বাড়ানোর ব্যাপারেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ বিভাগ কাজ করছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিং এবং হুন্ডি কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীদের কষ্টে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে না। বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব সংবলিত চিঠিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বলেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্স প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকারের সংস্থাগুলো বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে দেশে রেমিট্যান্স আনার পেছনে হাতে হাত রেখে কাজ করছে। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর বিভিন্ন উপায়গুলো উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে অনাবাসীরা (এনআরবি) দেশে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের জন্য আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আমাদের দেশে রেমিট্যান্স আহরণে ডলার প্রিমিয়ািম বন্ড, ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ওয়েজ ইয়ার্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মতো বেশকিছু বিনিয়োগ কার্যক্রম রয়েছে। এই বিনিয়োগ উপকরণগুলো আরও কার্যকর করার জন্য এমন কিছু পরিবর্তন আনা উচিত যাতে প্রবাসে থেকেই একজন বিনিয়োগকারী এ ধরনের বন্ডে সহজে বিনিয়োগ করতে পারেন। এজন্য বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে ব্যাংকটি। বর্তমানে প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ রেখে বন্ড মূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। তবে এই ঋণের অর্থ শুধু দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগ করা যায়, কোনোক্রমেই এই অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা যাবে না। এই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ দিলে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া অনাবাসী বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের পর যাতে তাদের চাওয়া অনুযায়ী বৈদেশিক বা স্থানীয় মুদ্রায় মুনাফা নগদায়নের সুযোগ সহজে পায়; জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগে ট্যাক্স রিবেট দেওয়া, বন্ডে বিনিয়োগ রেজিস্ট্রেশন সহজ করা, বিনিয়োগের জন্য নির্বাচিত নমিনি পরিবর্তনের সুযোগ রাখা এবং সর্বোপরি এ ধরনের বন্ডে যাতে ঘরে বসে অনলাইনে বিনিয়োগের সুযোগ থাকে সেই উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *