চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে বাংলাদেশ সমর্থন দেওয়ায় উদ্বিগ্ন ভারত

ভারত সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহী চীন।

চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরই) ‘সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে’ এ যুক্তিতে যোগ দেয়নি ভারত। তবে এ প্রকল্প নিয়ে ভারতের আপত্তি সত্বেও দেশটির অন্যতম প্রতিবেশি ও বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশ যোগ দেওয়ায় ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক নিউজ  এর এক প্রতিবেদনে।

তবে ভারতের আপত্তি থাকলেও চীনের এ প্রকল্পে আরও একবার সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহিদুল হক বলেছেন, চীনের নেওয়া ওই পদক্ষেপ সময়ের চাহিদা পুরণে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় ভুমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পে যোগ দিয়েছে। শহিদুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে ভৌগলিকভাবে ছোট হলেও ও নানা সমস্যা থাকা সত্বেও বাকী বিশ্বের সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’

ভারতে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম আরও বেশি সংযোগ আর যুক্ততা বৃদ্ধি চায়। আর এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যেতে চাই ‘

বিআরআইয়ের অংশভুক্ত চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরে (সিপিইসি) পাকিস্তানের অংশভুক্ত কাশ্মীর থাকায় ভারত আপত্তি জানিয়েছে। ভারত মনে করছে,অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি  এ প্রকল্প তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় প্রাচীন সিল্ক রোড পুনরায় চালু করতে চায় চীন। এই পথ ব্যবহার করে ৬৫টি দেশের সঙ্গে সড়ক আর রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে আগ্রহী চীন। এর মধ্যে অনেক দেশই এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখালেও ভারত বলছে এই পদক্ষেপে চীনই বেশি লাভবান হবে। পশ্চিম ভারতীয় সীমান্তের বিতর্কিত কাশ্মির দিয়ে এই রাস্তা পাকিস্তানকে যুক্ত করবে। আর পুর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের ওই প্রকল্পে সমর্থন নতুন করে চিন্তা বাড়াবে ভারতের। নেপালও ওই প্রকল্পে এর মধ্যেই যোগ দিয়ে ফেলেছে।

বিআরআই প্রকল্পের চীন-পাকিস্তানের একটি অংশ কাশ্মির দিয়ে গেছে। পাকিস্তান এলাকাটি নিজের বলে দাবি করলেও ভারতও সে অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। স্পুটনিক নিউজ বলছে, এর চেয়ে বড় ব্যাপার হলো দক্ষিণ এশিয়া আর ভারত সাগর এলাকায়  এই ধরণের বিনিয়োগ নুতন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। যা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান দুর্বল করে তুলতে পারে। অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতার জন্যও এটিকে হুমকি হিসেবে দেখছে ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *