মুশফিকের একার সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি : তামিম

তামিম ইকবাল। ফাইল ছবি

টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কি ‘দায়িত্বশীল’ আচরণ করতে পারছেন? ব্লুমফন্টেইন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে অনেক কথা বলেছেন মুশফিক। প্রশ্ন উঠেছে তার নেতৃত্ব নিয়ে। সেই সঙ্গে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও উঠছে।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবাক করেছিলেন সবাইকে। যার ফলাফল হাতেনাতে পেয়েছে দল। এমন ব্যাটিং পিচে কেন ফিল্ডিং নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সেটি নিয়ে আলোচনা-সমলোচনা শেষ নেই।

দ্বিতীয় টেস্টেও  টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়াতে কঠোর সমলোচনার মুখে পড়তে হয় মুশফিককে। মূলত টসের ব্যাপারটি দলীয় সিদ্ধান্তে হলেও একপ্রকার মুশফিকের ওপরই দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন সবাই। ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে মুশফিকের একার ছিল না সেটি জানিয়েছেন সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তিনি বলেন, ‘টসে জিতে ফিল্ডিং করা অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত। এটা কোনো সময় কারো একার হতে পারে ন। কোচ, অধিনায়ক, সহ- অধিনায়ক, সবারই মতামত থাকে এতে। আগের টেস্টের চিত্র দুই-একটা হয়ত ভিন্ন ছিল কিন্তু এই টেস্টে আমাদের চিন্তা পরিষ্কার ছিল। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে টসে জিতলে বোলিং নেব। অধিনায়ক যে-ই- হোক, দিনশেষে আমরা সবাই তো মানুষ। ভুল হতেই পারে।’

আগের টেস্টে টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়াটা যে ভুল ছিল সেটি স্বীকার করেন এই দেশসেরা ওপেনার। ব্যাটিং নিলে ভাল হত বলে মনে করেন তিনি। তবে সেটি যে মুশফিকের একার সিদ্ধান্ত ছিল না সেটিও বলেন তামিম। সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে বোলিং বেছে নিয়েছিল মুশফিক।

তামিম বলেন, ‘পচেফস্ট্রুমে বলতে পারেন ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ওখানে আগে ব্যাটিং করলে হয়ত ভালো হত। তবে আবারও বলছি, সেটি অধিনায়কের একার সিদ্ধান্ত ছিল না। সবাই একমত হয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মুশফিক যেহেতু অধিনায়ক, তাই তার ঘাড়ে দোষ চাপানো সহজ।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘দোষটা আসলে আমাদের ২৪-২৫ জনের ওপরই আসা উচিত। তবে দ্বিতীয় টেস্টের আগে আমারও মনে হয়েছিল ফিল্ডিং নিলে ঠিক হবে এখানে। কারণ প্রথম দিনে উইকেট বোলারদের জন্য একটু সাহায্য ছিল।’

উইকেটে প্রথম কয়েক ঘণ্টা পেসাররা সুবিধা পাবে বিধায় বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুশফিক। তবে বর্তমানে দলের অন্দরমহলের যে অবস্থা সেটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় কোনো কিছুই একার সিদ্ধান্তে হচ্ছে না। দ্বিতীয় টেস্টে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করেছেন মুশফিক।

এর আগে ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন শেষেও অভিযোগের সুরে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন মুশফিক। টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া, বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের সময় সীমানার প্রান্তে থাকা নিয়ে অভিযোগ ফুটে উঠেছিল তার কণ্ঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিসিবি সভাপতির মন্তব্য, ‘মুশফিকের অভিযোগের কোনও সতত্য আমরা পাইনি। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, মুশফিকের কথার সঙ্গে সেসবের মিল নেই।’

মুশফিকের কথাবার্তায় যে বোর্ড কর্মকর্তারা বিরক্ত, তা মোটামুটি স্পষ্ট। তবে এখনই তাকে টেস্ট অধিনায়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানালেন নাজমুল হাসান, ‘তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া বা তাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন মুশফিক। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার উত্তর ছিল, ‘ভাই, টস জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে!’

অধিনায়কের এমন কথায় বোর্ড সভাপতি বিস্মিত, ‘টস নিয়ে কোনও অধিনায়ক সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের কথা বলতে পারে না। এটা দলের জন্যও ভালো নয়। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা দেখে মনে হয়নি তারা জেতার জন্য মাঠে নেমেছে।’

মুশফিকের বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করার ব্যাখ্যাও তিনি মেনে নিতে পারেননি, ‘সে কোথায় ফিল্ডিং করবে সেই সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের ছিল না। সিদ্ধান্তটি ছিল তার, এটা তার ওপরে কেউ চাপিয়ে দেয়নি।’

তবে মুশফিকের যে কোনও ‘সমস্যা’ হচ্ছে, সে বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত নাজমুল হাসান, ‘মুশফিক অন্যদের চেয়ে আলাদা, সে নিজেকে কমই প্রকাশ করতে পারে। আসলে যারা চুপচাপ থাকে, তাদের মনে কী চলছে বোঝা যায় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *